আমরা কি কখনো খেয়াল করি,কিছু মানুষ ঘুমানোর সময় চোখ পুরোপুরি বন্ধ করে না?
চোখের পাতায় একটু ফাঁক থাকে, আর সেই ফাঁক দিয়ে চোখের সাদা অংশ দেখা যায়।
দেখতে একটু অস্বস্তিকর লাগে, অনেক সময় ভয়ও লাগে।
এই লেখাটা কোনো ভয় দেখানোর জন্য নয়, এটা মানুষের ভেতরের সেই অনুভূতির কথা, যেটা আমরা অনেক সময় কাউকে বলতে পারি না।
এটা কি অশুভ কিছু?
সোজা কথা বললে—না, সব সময় না।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা মানুষের শরীরের একটা স্বাভাবিক বিষয়।
ঘুম আসার সময় শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হয়, আর চোখের পেশিও তখন পুরো নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
এই কারণেই চোখ পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে একটু ফাঁক থেকে যেতে পারে।
তাহলে দেখতে অন্যরকম লাগে কেন?
ঘুমের সময় মানুষ আর আগের মতো থাকে না।
সে কথা বলে না, চোখে কোনো প্রতিক্রিয়া থাকে না, মুখের অভিব্যক্তিও বদলে যায়।
আমরা যাকে জেগে থাকা অবস্থায় চিনি, ঘুমের সময় সেই মানুষটাই একটু অচেনা মনে হয়।
এই অচেনা ভাবটাই আমাদের মনে অস্বস্তি তৈরি করে।
ভয়টা আসলে কোথা থেকে আসে?
ভয়টা আসে নীরবতা থেকে।
ঘুমন্ত মানুষ যখন কোনো সাড়া দেয় না, তখন আমাদের মন নিজেই প্রশ্ন বানায়—
এটা কি স্বাভাবিক, নাকি কিছু হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলো থেকেই ভয় বা অস্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়।
আধ্যাত্মিকভাবে মানুষ তখন কেমন অবস্থায় থাকে?
অনেকে বিশ্বাস করেন, ঘুম মানে শুধু শরীরের বিশ্রাম নয়।
এই সময় মানুষ নিজের ভেতরের জগতে বেশি থাকে, বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ কমে যায়।
মন অনেকটা শান্ত অবস্থায় চলে যায় বলেই চেহারাতেও এক ধরনের আলাদা ভাব দেখা যায়।
তখন কী করলে ভালো হয়?
ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
ঘুমানোর আগে মন শান্ত করা, দোয়া পড়া, নামাজ পড়া বা আল্লাহকে মনে করে শুয়ে পড়লে
ঘুম আরও স্বস্তির হয় এবং মনও হালকা থাকে।
শেষ কথা
ঘুম মানে শুধু চোখ বন্ধ করা না।
ঘুম মানে মানুষটা নিজের ভেতরের দরজাটা একটু খুলে দেওয়া।
দেখতে অস্বাভাবিক লাগতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এটা কোনো ভয়ংকর বিষয় না—
এটা শুধু মানুষ হওয়ার নীরব একটা মুহূর্ত।

No comments:
Post a Comment